যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্রমবর্ধমান অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশটির ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। গত নির্বাচনী প্রচারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার দল বিজেপি মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ভুল তথ্য প্রচার করেন।
প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ করেছে। বলা হয়েছে, ভারতকে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে সহযোগী হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র, তবে এর ফলে ভারতীয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়ে যাচ্ছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা কম।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অভিযোগ, ভারত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের লক্ষ্য করে তাদের হত্যা করার চেষ্টা করেছে। এই পরিস্থিতিতে, বিকাশ যাদব নামক ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। ভারতের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ভারত এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, তাদের সরকার সকল সম্প্রদায়ের জন্য বিদ্যুৎ, ভর্তুকি এবং অন্যান্য সহায়তামূলক প্রকল্প চালু করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, তার সরকার কখনোই মুসলিম বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করেনি।
এছাড়া, ইউএসসিআইআরএফ ভারতকে "বিশেষ উদ্বেগের দেশ" হিসেবে মনোনীত করার এবং র এবং যাদব-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে। তবে, এ বিষয়ে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।